![]()


খলিলুর রহমান, বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক ১৪টি ভারতীয় মহিষের মধ্যে ৯টি উধাও হয়ে গেছে। মহিষগুলোর মালিকানা দাবির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা এগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন। পরে শুক্রবার মহিষগুলো উদ্ধারে গিয়ে বিজিবি-পুলিশ মাত্র পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গৌড়নগর এলাকায় চোরাইপথে ভারত থেকে আনা ১৪টি মহিষ লুৎফুর রহমানের বাড়িতে রাখা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ আগস্ট বিজিবি-পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় লুৎফুর রহমান মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করে দুটি রশিদ দেখান। প্রাথমিক যাচাইয়ে রশিদগুলো সন্দেহজনক ও ভুয়া বলে বিজিবি জানতে পারে।
তবে কাগজপত্রের বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময় প্রয়োজন হওয়ায় এবং মহিষ উদ্ধারে লুৎফুর রহমান ও তাঁর ভাই হিফজুর রহমান বাধা দেওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ মহিষগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন। তবে মহিষগুলো লুৎফুর রহমানের বাড়িতেই রাখা হয়।
পরবর্তীতে বিজিবির অধিকতর যাচাই ও গোয়েন্দা তদন্তে লুৎফুর রহমানের দেখানো মালিকানার কাগজপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। শুক্রবার বিকেলে বিজিবি-পুলিশের যৌথ দল জিম্মাদার দুই বিএনপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে মহিষগুলো উদ্ধারে অভিযান চালায়।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মেজর মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে লুৎফুর রহমানের বাড়িতে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরে পাশের একটি ডোবা থেকে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করা হয়। সেগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকি নয়টি মহিষ কোথায় গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪টি ভারতীয় মহিষ উদ্ধার করা হয়েছিল। মালিকানা দাবির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়। পরে মহিষগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে পাঁচটি পাওয়া গেছে। বাকি নয়টি উদ্ধারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সীমান্ত দিয়ে মহিষসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।